ডার্ক মোড
Tuesday, 18 January 2022
Logo
কম ঘুমালে মস্তিষ্ক নিজেই নিজেকে খেয়ে ফেলে

কম ঘুমালে মস্তিষ্ক নিজেই নিজেকে খেয়ে ফেলে

ঘুম বা নিদ্রা হচ্ছে মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীর দৈনন্দিন কর্মকান্ডের ফাঁকে বিশ্রাম নেওয়ার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যখন সচেতন ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া স্তিমিত থাকে।সাম্প্রতিক এক গবেষণা থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে , ঘুমের অভাব হলে মস্তিষ্ক নিজেই নিজেকে খেয়ে ফেলে। তাঁর মানে হলো, মস্তিষ্কের কোষগুলোর বর্জ্য ধ্বংস করে যেসব কোষ, তারা অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে পড়ে।

 

আমরা সবাই জানি - মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখার জন্য ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। আমরা যখন ঘুমাই তখন সারা দিনে জমা হওয়া ক্ষতিকর পদার্থগুলো পরিষ্কার হয়। এতে মস্তিষ্ক আবার ঠিকভাবে কাজ করতে পারে ঘুম থেকে উঠার পরে ।

 

 মাইক্রোগ্লিয়া কোষগুচ্ছ মস্তিষ্ককে পরিষ্কার রাখার এই কাজটি করে, যারা স্নায়ুতন্ত্রের বর্জ্য, ক্লান্ত এবং মৃত কোষের বর্জ্য পরিষ্কার করে। অ্যাস্ট্রোসাইট হলো আরও এক ধরণের কোষ, যেটি মস্তিষ্কের বেশ কিছু কাজ একসাথে করে। এদের অনেকেগুলো কাজের মাঝে অন্যতম একটি হলো মস্তিষ্কের অপ্রয়োজনীয় সিন্যাপ্সগুলোকে ছেঁটে ফেলা।

নিউরোসায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয় চার দল ইঁদুরের ওপর। ১ম দলকে ইচ্ছেমত ঘুমাতে দেওয়া হয়। ২য় দলকে সময়মত ঘুম থেকে ওঠানো হয়। ৩য় দলকে অতিরিক্ত আট ঘন্টা জাগিয়ে রাখা হয়। আর ৪র্থ দলকে টানা পাঁচ দিন জাগিয়ে রাখা হয়।

যে ইঁদুর আরাম করে ঘুমিয়ে ছিল মস্তিষ্কে অ্যাস্ট্রোসাইট সক্রিয় ছিল ৬ শতাংশ সিন্যাপ্সে। আর যে ইঁদুর আট ঘন্টা ঘুমানো ছিল তাদের ৮ শতাংশ সিন্যাপ্সে সক্রিয় ছিল অ্যাস্ট্রোসাইট। আর টানা ৫ দিন না ঘুমানো ইঁদুরে ১৩.৫ শতাংশ সিন্যাপ্সে অ্যাস্ট্রোসাইট সক্রিয় ছিল। এর অর্থ হলো ঘুমের অভাবে বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে অ্যাস্ট্রোসাইট কোষগুলো।

 

অ্যাস্ট্রোসাইট ঘুমের অভাব হলে সিন্যাপ্সের কিছু অংশ খেয়ে ফেলে, এটা আমরা প্রথমবারের মত দেখাতে পেরেছি,” বলেন এই গবেষণার নিউরোসায়েন্টিস্ট মাইকেল বেলেসি। তবে ঘুমের প্রচন্ড অভাবের সময়ে এই প্রক্রিয়াটি উপকারী নাকি অপকারী সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত করে কিছু বলেননি।

 

তবে মাইক্রোগ্লিয়ার কার্যক্রম ব্যাপারটি বেশি দুশ্চিন্তার উদ্রেক করে । এরা অতিরিক্ত ঘুমের অভাবের ফলে সক্রিয় হয়। আর এর সক্রিয়তা থেকে দেখা দিতে পারে অন্যান্য রোগ তার মধ্যে আলঝেইমার্স এবং মস্তিষ্কের ক্ষমতা ক্ষয় হওয়া ।

 

গবেষকেরা বলেন - “অতিরিক্ত ঘুমের অভাব মাইক্রোগ্লিয়া কোষকে সক্রিয় করে এবং তাদের ফ্যাগোসাইটিক (কোষের বর্জ্য খেয়ে ফেলা) কাজে অনুপ্রেরণা দেয়, নিউরোইনফ্লামেশনের কোনো বড় লক্ষণ ছাড়াই। তাঁর মানে হল বড় সময়ের জন্য ঘুমের অভাব মাইক্রোগ্লিয়াকে প্রভাবিত করে এবং অন্যান্য সমস্যার ব্যাপারে মস্তিষ্ককে সংবেদনশীল করে তোলে।”

 

শরীরের সবচাইতে জটিল অঙ্গ, মস্তিষ্ক প্রতিনিয়তই নতুন করে নিজেকে তৈরি করছে, শক্তিশালী হচ্ছে আর ভাঙ্গাগড়ার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। এটা একটি অসীম প্রক্রিয়া, যেখানে কিছু কাঠামো ভাঙ্গে আর কিছু নতুন করে তৈরি হয়। এ নিয়ে আরো গবেষণা হলে বোঝা যাবে এই অ্যাস্ট্রোসাইট এবং মাইক্রোগ্লিয়ার সক্রিয়তা মস্তিষ্কের ওপর আসলে কী প্রভাব রাখে। তবে তা না জানা পর্যন্ত যথেষ্ট ঘুমানোটাই নিরাপদ।

 

সূত্র: আই এফ এল সায়েন্স

ট্যাগস্

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

ভোট / জরিপ

স্থলে ও জলে মানুষের কৃতকর্মের দরুণ বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে। আপনি কি মনে করেন কথাটি সত্য?

ফলাফল প্রদর্শন করুন
হ্যাঁ
100%
না
0%

আর্কাইভ!

অনুগ্রহ করে একটি তারিখ নির্বাচন করুন!

ভোট / জরিপ

আপনি কি নিউজ বাংলার সেবায় উপকৃত?

ফলাফল প্রদর্শন করুন
আমি সন্তুষ্ট
100%
আরও উন্নত করতে হবে
0%
নিয়মিত পোস্ট চাই
0%

নিউজলেটার

নতুন আপডেট পেতে আমাদের মেইলিং তালিকায় সাবস্ক্রাইব করুন!